গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি রোজ বৃহস্পতিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের গুড়াইল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভাউর মায়ের স্থান সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে চতুর্মুখ সংযুক্ত মহাকাল ভৈরবের একটি প্রাচীন বিগ্রহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোড়ন ও গভীর ধর্মীয় আবহ।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর আলোচনার ভিত্তিতে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত বিগ্রহটি সর্বতোভদ্র চতুর্মুখ মহাকাল ভৈরব, যার চারদিকে চারটি মুখ ও দেহাবয়ব সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ উভয় ক্ষেত্রেই এই বিগ্রহটির গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও ভক্তসমাজ। "সত্য সনাতন টিভি"
স্থানীয়দের মতে, লোকচক্ষুর অন্তরালেই দীর্ঘকাল ধরে দেবতা ভৈরব এখানে পূজিত হয়ে আসছিলেন এমন বিশ্বাস বহু প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত। ভৈরব জয়ন্তীর পুণ্যতিথিতেই এই বিগ্রহের আবির্ভাব অনেকের কাছে অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। "সত্য সনাতন টিভি"
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানার মাধ্যমে বিগ্রহটি সংগ্রহ করে জাদুঘরে সংরক্ষণের একটি প্রস্তাব উঠে আসে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীদের একান্ত ইচ্ছা এই প্রাচীন বিগ্রহটি স্থানীয় গ্রামেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সনাতন রীতি অনুযায়ী নিয়মিত পূজার্চনার মাধ্যমে স্থাপন করা হোক। তাঁদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রত্নসম্পদ নয়, বরং তাঁদের বিশ্বাস, আস্থা ও ধর্মীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিগ্রহ উদ্ধারের পর থেকে গুড়াইল গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় চরম আধ্যাত্মিক ও ভক্তিমূলক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী মূর্তি দর্শন ও পূজার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এটি এক অনন্য আধ্যাত্মিক প্রাপ্তি, অপরদিকে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বপ্রেমীদের কাছে এটি এক অমূল্য আবিষ্কার।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও সার্বিক বিষয়টি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। বিগ্রহটির ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ ও স্থাপন নিয়ে প্রশাসন ও গ্রামবাসীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।