বাংলাদেশে বসবাসরত সনাতনী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আঞ্চলিকতার নামে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি আয়ান শর্মা। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আঞ্চলিকতা নয়, দেশে থাকা সনাতনীরাই বাস্তবতার বড় স্বাক্ষী।”
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে আঞ্চলিক পরিচয় ব্যবহার করে সনাতনী তরুণ–তরুণীদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। বিষয়টিকে “পরিকল্পিত অপতৎপরতা” হিসেবে উল্লেখ করে আয়ান শর্মা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সনাতনী জনগোষ্ঠী বারবার নিপীড়নের শিকার হলেও বাস্তবতা আড়াল করতে এবং ভেতরে ভেতরে বিভক্ত করতে একটি মহল সচেষ্ট। "সত্য সনাতন টিভি"
তিনি আরও লিখেছেন, দেশের সনাতনী সমাজ বহু শতাব্দী ধরে এক সুতোয় বাঁধা। ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলোতে সারা দেশের মানুষের অংশগ্রহণই এ ঐক্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি আঞ্চলিক ভাষা, উপভাষা বা ভৌগোলিক পরিচিতিকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে বিভাজনমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন, যা সম্প্রদায়ের জন্য হুমকিস্বরূপ। সত্য সনাতন টিভি"
ফেসবুকে দেওয়া তার মন্তব্যে তিনি সকল সনাতনীর প্রতি আহ্বান জানান আঞ্চলিকতার ফাঁদে পা না দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “যে দেশে মন্দির আক্রমণ, জমি দখল, নিপীড়ন এখনও বাস্তবতা সেই দেশে সনাতনী সম্প্রদায়কে বিভক্ত করা মানে দুর্বল করে ফেলা।”
বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। অনেকেই আয়ান শর্মার বক্তব্যকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, আঞ্চলিকতা বা ভাষাগত বৈষম্যের নামে বিভক্তি তৈরি হলে সেটির সুবিধা নেবে সমাজবিরোধী গোষ্ঠী।
সনাতনী সমাজের নেতারা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সত্য ও সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এখন জরুরি।