মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পাখুল্লায় গ্রামে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের জের ধরে মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৮ ঘটিকার দিকে স্থানীয় দুই ব্যক্তি নরেশ বালা ও সুজয় বালা ওপর একদল যুবকের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় গ্রামের একদল সশস্ত্র যুবক দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টা করে। দোকানের মালিক তাদের বাধা দিলে তাকে হাতুড়ি, দা ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা দোকান মালিকের স্ত্রী ও মেয়েকেও মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হামলায় আহত নরেশ বালা ও সুজয় বালাকে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। "সত্য সনাতন টিভি"
গ্রামবাসীর দাবি হামলার মূল সূত্রপাত প্রায় দুই–তিন মাস আগে। স্থানীয় দুই শিক্ষার্থী, একজন অষ্টম শ্রেণির ছেলে ও একজন অষ্টম শ্রেণির মেয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। দুই শিক্ষার্থী একদিন তাদের দুই বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে বের হলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং মেয়ের পরিবার ছেলেদের ওপর শারীরিক আক্রমণ চালায়।
গ্রামবাসী ছেলেদের উদ্ধার করে বাড়ি পাঠালেও দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ এরপর আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরে গ্রামের মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে পাখুল্লা বাজারে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সালিশের জেরে পরবর্তীতে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রাজৈর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রামবাসী জানায়, শান্তিপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক সংঘর্ষ ও হামলার কারণে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।