ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলা বিভাগের ২০১৯–২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবু সামেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর ও উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন। এ ধরনের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী হওয়ায় তাঁকে ৬ (ছয়) মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, তাঁর কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বহিষ্কারের মেয়াদকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একাডেমিক বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা সম্প্রদায়ভিত্তিক ঘৃণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্যের কোনো স্থান নেই।”
এর আগে, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সহকারী প্রক্টর ড. কে. এম. নূরুল আমিন সিদ্দিকী, এবং সদস্য ছিলেন ড. এমদাদুল হক সোহাগ, ড. শামীম বড়ুয়া, ও দেবাশীষ পাল (প্রভাষক, জগন্নাথ হল)।
তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বহিষ্কার আদেশে স্বাক্ষর করেন। "সত্য সনাতন টিভি"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।”