দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির প্রাঙ্গণে পবিত্রতা রক্ষায় ‘কান্তজীউ অমৃত কথা’ সংগঠনের উদ্যোগে মন্দিরের পাশে অবস্থিত পুরাতন শিব মন্দিরে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে।
গত ২ নভেম্বর দুপুর অনুমানিক ১২ ঘটিকার দিকে সংগঠনের সদস্যদের উদ্যোগে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। "সত্য সনাতন টিভি"
সংগঠনের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল অনেক দর্শনার্থী ও পর্যটকরা বাইরের অর্চনা মন্দিরে (পুরাতন শিব মন্দিরে) জুতা পরে উপরে উঠছেন, ছবি তুলছেন এবং মন্দির প্রাঙ্গণে অশোভন আচরণ করছেন। বহুবার অনুরোধ ও সতর্ক করার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় মন্দিরের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার্থে এই বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। "সত্য সনাতন টিভি"
এই সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত এজেন্ট রণজিৎ কুমার সিংহ, কান্তজীউ মন্দিরের হরিসভা কমিটির সভাপতি রতন কুমার সাহা, এবং কান্তজীউ অমৃত কথা টিমের সকল সদস্যবৃন্দ। "সত্য সনাতন টিভি"
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমরা কান্তজীউ মন্দির কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বেড়াটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের।”
এছাড়া সংগঠনটি সনাতন ধর্মের প্রচার ও প্রসারে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে যেমন গীতা শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম। শিগগিরই আরেকটি গীতা শিক্ষালয় উদ্বোধনেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, বাঁশের বেড়াটিতে রঙ করা হলে এটি আরও আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ নভেম্বর রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে শুরু হতে যাচ্ছে কান্তজীউ মন্দিরে এক মাসব্যাপী রাস মেলা। এই উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী দিনাজপুরে সমবেত হবেন।
প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এই কান্তজীউ মন্দির দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে, কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে, ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত। ১৭০৪ সালের আশেপাশে নির্মিত এই মন্দিরটি বাংলাদেশের অন্যতম দর্শনীয় ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে খ্যাত। "সত্য সনাতন টিভি"
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও মন্দিরের সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষজন।