বঙ্গোপসাগর তটবর্তী সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহাসিক রাস উৎসবকে ঘিরে এবার ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে বনবিভাগ। শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীরা উৎসবে অংশ নিতে পারবেন, কোনো পর্যটক বা দর্শনার্থীর প্রবেশ থাকবে না। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, হরিণ শিকার প্রতিরোধ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। "সত্য সনাতন টিভি"
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব, যা ৫ নভেম্বর ভোরে সাগরের প্রথম জোয়ারের লোনা জলে পূণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের আলোরকোলে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা অংশ নেবেন। "সত্য সনাতন টিভি"
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮শ শতকের শেষভাগে বা ১৯শ শতকের শুরুর দিকে হিন্দু সন্ন্যাসী হরভজন দাস সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজার সূচনা করেন। পরবর্তীতে তাঁর অনুসারীদের হাত ধরে এটি সনাতনীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাস উৎসব ঘিরে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যায়, যা বনের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। শব্দদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং পূণ্যার্থীর ছদ্মবেশে প্রবেশ করা হরিণ শিকারীদের কারণে বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ে। এজন্য ২০১৭ সাল থেকে উৎসবের কার্যক্রম সীমিত করা হয় এবং শুধুমাত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও স্নান উৎসবে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। "সত্য সনাতন টিভি"
রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে আলোরকোলে শুরু হয়েছে রাধা-কৃষ্ণের অস্থায়ী মন্দির নির্মাণের কাজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পূণ্যার্থীরা এখানে পূজাআর্চনা করবেন এবং ৫ নভেম্বর ভোরে সাগরে পূণ্যস্নান শেষে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবেন।
এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এবছর শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীরাই রাস উৎসবে অংশ নিতে পারবেন। কোনো ট্যুর অপারেটর বা পর্যটককে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অতীতে পর্যটকদের ভিড়ে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। "সত্য সনাতন টিভি"
তিনি আরও বলেন, রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে হরিণ শিকার, শব্দ দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের সমস্যা দেখা দিত। এ বছর এসব রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "সত্য সনাতন টিভি"
বনবিভাগ জানিয়েছে, পূণ্যার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫টি নৌপথ, আর উৎসব এলাকা ও আশপাশে থাকবে কড়া নিরাপত্তা। "সত্য সনাতন টিভি"
এবারের রাস উৎসব তাই শুধুমাত্র ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর প্রকৃতি সংরক্ষণের এক সমন্বিত উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে প্রশাসন ও স্থানীয়রা।